নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮
বন্ধ থাকা সীমান্তবর্তী রেলপথগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
জনতা ডেস্ক
সরকার সীমান্তবর্তী বন্ধ থাকা রেলপথ নতুন করে পুননির্মাণের পাশাপাশি নতুন রেলপথ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিগত ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বেশকিছু রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর স্বাধীন বাংলাদেশেও সীমান্তবর্তী রেলের একাধিক রেলপথ বন্ধ করে দেয়া হয়। সীমান্তবর্তী ওসব রেলপথ বন্ধ থাকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে এদেশের মানুষের যোগাযোগ নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থলবন্দরনির্ভর হয়ে পড়ে। তাছাড়া রেলপথ বন্ধ হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একসময় সীমান্ত এলাকার মানুষ কম খরচে ও দ্রুত জেলা শহর কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করলেও বর্তমানে সীমান্ত এলাকার বাণিজ্য, কৃষির সাথে দেশের মূলস্রোতের কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, পর্যটন, সীমান্ত বাণিজ্য ও ভারতের সাথে ট্রানজিট চুক্তি সামনে রেখে বন্ধ রেলপথগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সিলেটের কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত একসময় ৩৮ কিলোমিটারের মিটারগেজ রেলপথ ছিল। ওই অঞ্চলের মানুষ সেই রেলপথ ব্যবহার করে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জের সাথে যোগাযোগ করতো। রেলের ৪০নং ওয়ার্কিং টাইম টেবিল অনুসারে কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনে কুলাউড়া, জুরী, দক্ষিণবাগ, কাঁঠালতলী, বড়লেখা, মুরাউল ও শাহবাজপুর পর্যন্ত মোট ৭টি স্টেশন ছিল। কিন্তু ২০০২ সালে তৎকালীন সরকার জনপ্রিয় ওই রেলপথ বন্ধ করে দেয়। আর ১৯৯৭ সালে বন্ধ করে দেয়া হয় ফেনী-বেলুনিয়া রেলপথ। একইভাবে বন্ধ হয়ে যায় নরসিংদী-মদনগঞ্জ রেলপথও। তবে বর্তমানে সরকার বিলুপ্ত ও বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলপথগুলো নতুন করে চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অবশ্য নরসিংদী-মদনগঞ্জ রেলপথটি বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে থাকায় ওই পথে রেল যোগাযোগে ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথটি পুননির্মাণে ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর একনেকে ১১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাস হয়। তবে অর্থ সরবরাহ জটিলতা এবং দরপত্র আহ্বানে বিলম্বেও কারণে প্রকল্পটি মাঝপথে আটকে যায়। শুরুতে মিটারগজ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও ভারতের আগ্রহে রেলপথটিকে ডুয়ালগজ হিসেবে নির্মাণ কাজ শুরু করে রেলওয়ে। পুনঃসমীক্ষার পর ২০১৫ সালের মার্চে নতুন করে ডিপিপি পাস হয়। তাতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্প নামের ওই প্রকল্পে ভারত ৫৫৫ কোটি ৯৮ লাখ ও বাংলাদেশ সরকার ১২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ করবে। আর প্রস্তাবিত প্রকল্পের অধীনে মোট ৫১ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার ডুয়ালগজ (মিটারগজ ও ব্রডগজ) রেলপথ নির্মাণ করা হবে। তার মধ্যে নির্মিত হবে ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার মেইন লাইন এবং ৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার লুপ লাইন। তাছাড়া বিদ্যমান স্টেশন পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ভারতের ট্রানজিট সুবিধা বাস্তবায়নের প্রয়োজনে ওই সেকশনে আধুনিক একটি রেলপথ ও রেল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। শুরুতে ২০১৭ সালের মধ্যে রেলপথটির পুনর্বাসনকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ওই সময় দুই বছর বাড়িয়ে ২০১৯ সাল পর্যন্ত করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে নতুন করে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীন কুলাউড়া-শাহবাজপুর (ভারতের মহীশ্মশান) পর্যন্ত রেলপথের নির্মাণকাজ শুরু হবে চলতি বছরের জুনের মধ্যেই। তাছাড়া ফেনী-বেলুনিয়া পর্যন্ত রেলপথের নির্মাণ কাজ শুরু করতেও ইতিমধ্যে সমীক্ষা শুরু করেছে রেলওয়ে। ভারতের সাথে খুলনার মানুষের যোগাযোগ বিস্তৃত থাকায় মৈত্রী এঙ্প্রেস ট্রেন চালু এবং বাণিজ্য সমপ্রসারণের লক্ষ্যে খুলনা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত নতুন একটি রেলপথও নির্মাণ করবে সরকার। অর্থাৎ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাঁচটি রেলপথ পুনরায় চালু এবং নতুন রেলপথ নির্মাণের মাধ্যমে এদেশের সাথে ভারতের চতুর্মুখী যোগাযোগ স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালেহ উদ্দিন জানান, শুধুমাত্র ট্রানজিটের কারণেই ভারত সীমান্তবর্তী রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে না। দেশের সাধারণ মানুষকে রেল যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা, সীমান্ত এলাকার বাণিজ্য সমপ্রসারণ ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই সরকার সীমান্তবর্তী রেলপথগুলো সমপ্রসারণ করতে চাইছে। শিগগিরই কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ফেনী-বেলুনিয়াসহ অন্যান্য রেলপথ পুননির্মাণেও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২০
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৫২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.